June 30, 2022, 5:05 pm

স্বাগতম:
আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। সামাজিক আচরণ করুন, সকল-কে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন।

করোনার চিকিৎসায় প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যর্থ রেমডেসিভির

করোনাভাইরাসে আক্রান্তদের চিকিৎসায় সম্ভাব্য অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ রেমডেসিভির প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ব্যর্থ হয়েছে। ধারণা করা হয়েছিল, কোভিড-১৯ চিকিৎসায় কার্যকর হবে এই ওষুধটি। কিন্তু একটি চীনা পরীক্ষায় রেমডেসিভির রোগীদের সারিয়ে তুলতে সফল হয়নি। ভুল করে প্রকাশিত বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি খসড়া প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, ওষুধটি রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটাতে বা রক্তপ্রবাহে প্যাথোজেনের উপস্থিতি কমাতে পারেনি। তবে ওষুধটি উৎপাদনকারী মার্কিন কোম্পানি গিলিড সায়েন্সেস বলছে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নথিতে গবেষণাটিকে সঠিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি এখবর জানিয়েছে।

করোনাভাইরাস আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য এখন পর্যন্ত কোনও অনুমোদিত ওষুধ নেই। বিশ্বের বিভিন্ন দেশ কার্যকরী ওষুধ নিয়ে গবেষণা করছে। যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল ইন্সটিটিউটস অব হেলথও বেশ কয়েকটি ওষুধ নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে।  এরই একটি হলো রেমডেসিভির ওষুধ। গিলিড সায়েন্সেস-এর তৈরি এ ওষুধটি ইবোলার বিরুদ্ধে পরীক্ষা করা হলেও এতে সফলতা এসেছিলো খুবই কম। তবে বিভিন্ন পশুর শরীরে চালানো বেশ কয়েকটি পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে কোভিড-১৯, সার্স ও মার্সসহ করোনাভাইরাস সংক্রান্ত সংক্রমণ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় এ ওষুধ কার্যকরী।

মানবদেহে রেমডেসিভিরের প্রথম ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল ব্যর্থতার খবর সামনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা পরীক্ষাটির ডাটাবেজ প্রকাশ করার পর। পরে তা সরিয়ে ফেলা হয়। সংস্থাটি পরে নিশ্চিত করেছে যে, ভুল বশত তা আপলোড করা হয়েছিল।

গবেষণার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৩৭ জন রোগীর উপরে ট্রায়াল করে দেখা হয়েছে এই ওষুধ। ১৫৮ জনকে রেমডেসিভির খাইয়ে পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছিল, বাকি ৭৯ জনকে ওষুধ খাওয়ানো হয়নি। দেখা গেছে, রেমডেসিভির যারা খেয়েছিলেন তাদের শারীরিক অবস্থার বিশেষ উন্নতি হয়নি। আবার কয়েকজনের মধ্যে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়াতে পরীক্ষা বন্ধ করে দেওয়া হয়।

২০১০ সালে এই অ্যান্টিভাইরাল ওষুধ তৈরি করে গিলেড সায়েন্সস। তাদের ওয়েবসাইটে জানানো হয়েছিল, রেমডেসিভির  নিউক্লিওটাইড অ্যানালগ, সার্স ও মার্স ভাইরাসের সংক্রমণ রুখতে কিছুটা হলেও কাজে এসেছিল এই ওষুধ। চারজন করোনা আক্রান্ত রোগীর উপর এই ড্রাগের প্রভাব কার্যকরী হয়েছে বলেও দাবি করা হয়েছিল কোম্পানির পক্ষ থেকে। যদিও তখনই এই ওষুধ ব্যবহারে সবুজ সংকেত দিতে পারেনি গিলেড সায়েন্সেস। পরে, নিউ ইংল্যান্ড জার্নাল অব মেডিসিনে একটি গবেষণা প্রতিবেদনে বিজ্ঞানীরা দাবি করেন, রেমডেসিভির ভাইরাসের বৃদ্ধি ও বিস্তার আটকাতে পারে। ভেন্টিলেটর সাপোর্টে রাখা সংকটাপন্ন রোগীদের উপরেও কাজ করতে পারে এই ড্রাগ।

গিলেড সায়েন্সে জানিয়েছিল, ৫ হাজার ৫০০ রোগীর উপরে এই ওষুধের ক্লিনিকাল ট্রায়াল চলছে। সেই ট্রায়ালের প্রতিবেদন এখনও প্রকাশ করেনি সংস্থাটি।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পোস্টের সঙ্গে ভিন্নমত প্রকাশ করে গিলেড’র এক মুখপাত্র বলেন, আমরা মনে করি এতে গবেষণাটি টিকভাবে তুলে ধরা হয়নি। কম সংখ্যক মানুষের উপর পরীক্ষার কারণে পরিসংখ্যানগতভাবে এটি অর্থহীন। এই গবেষণার ফল অমীমাংসিত। যদিও তথ্যের প্রবণতা রেমডেসিভির প্রয়োগে রোগীদের মধ্যে উন্নতির ইঙ্গিত দিয়েছে। বিশেষ করে প্রাথমিক পর্যায়ে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved 2020 msbabu.com