August 16, 2022, 10:39 pm

স্বাগতম:
আমার ব্লগে আপনাকে স্বাগতম। সামাজিক আচরণ করুন, সকল-কে ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখুন।

বিদেশ ভ্রমন পর্ব-৩ (ইমিগ্রেশন/কাস্টমস)

ইতিপূর্বে পাসপোর্ট কিভাবে করতে হয় ভিসা কি ভাবে করতে হয় তার প্রয়োজনী কাগজপত্রাদি ও পর্যায় সমুহ নিয়ে আলোচনা করেছি। আজ বিদেশ ভ্রমনের জন্য প্রস্তুত হবো এবং কলকাতা পর্যন্ত যাবো।

আপনার পাসপোর্ট ও ভিসা রেডি হওয়ার পরই আপনি বিদেশ যাওয়ার জন্য উপযুক্ত হবে।

বিমানযোগে ইন্ডিয়া তথা বিশ্বের যে কোন দেশে যাওয়ার পদ্ধতিতে প্রথমেই আসবে বিমানের টিকেট। তারমানে আগেই আপনাকে টিকেট রেডি করতে হবে। ধরুন আপনি ইন্ডিয়া যাবেন। তাহলে আপনি ঢাকা টু কলকাতা, ঢাকা টু চেন্নাই, ঢাকা টু বেঙ্গালুর, ঢাকা টু দিল্লি-র টিকেট করতে হবে। টিকেট, পাসপোর্ট, ভিসা, করোনাকালীন সময় করোনা সার্টিফিকেট অথবা আরটিপিসিআর রিপোর্ট(যে কোন একটি), বিমান সেবা সনদ এবং যদি কোন স্টেট পারমিশন সিস্টেম চায় চায় তাহলে অনলাইনে সেটাও ফর্মপুরণ করে প্রিন্ট হাতে নিয়ে রওয়ানা দিতে হবে।

প্রথমেই হযরত শাহজালার আন্তর্জাতিক বিমান বন্দরের টার্মিনাল ১ এর উপর তলায় যাবেন। যে বিমানের টিকেট করেছেন সেখানকার প্রতিনিধি রয়েছে। যেমন- ইউএস-বাংলা, নভো, বাংলাদেশ বিমান এদের প্রতিনিধি রয়েছে। সেখানে আপনার টিকেট দেখিয়ে বোটিং নেবেন এবং লাগেজ জমা করে দেবেন। এরপর ইমিগ্রেশনের জন্য কাউন্টারে যাবেন। ভিড় থাকলে লাইনে দাড়াবে তাড়াহুড়া করার চেষ্টা করবে না। ইমিগ্রেশনে আপনার ছবি তুলে আপনার পাসপোর্টে একটি সিল দেবে। দেখে নেবেন। তারপর ভেতরে অপেক্ষা করবেন। আগেই বলে রাখি বিমান টাইম ১২টায় আর আপনি গিয়ে উপস্থিত হবে ১১:৩০ঘটিকায় এমনটি যেন না হয়। অবশ্যই ২ঘন্টা হতে নিয়ে যাবেন। কারণ ভিড় হলে আপনি বিমান মিস করতেও পারেন। ইমিগ্রেশন শেষ হলে ভেতরে গিয়ে বসবেন। কতনম্বর গেট দিয়ে বিমানে উঠবেন তা বোটিংপাসে লিখা থাকবে। তাই সেই গেটের আশেপাশে থাকবেন। সেখানে চেকিং শেষ করে ওয়েটিং রুমে অপেক্ষা করবেন। সময় হলে এলে আপনাদের বিমানে উঠার জন্য নিয়ে যাবেন। এখানে কিছু জিনিস শিক্ষনীয়। বোটিংপাসে সিট নম্বর থাকে এমন 3A বা 1B বা 4D এখানে সংখ্যাদিয়ে সিট নম্বর বোঝায় আর অক্ষর দিয়ে রো/সারি বোঝায়। তাই বিমানে উঠার পর যাকে তাকে জিজ্ঞাসা করার দরকার নেই আপনার সিট কোথায়। ব্যাগেজ বোর্ডে আপনার সিট নম্বর দেয়া রয়েছে। ব্যাগেজ বোর্ড বলতে মাথার উপর যেখানে সিলিং রয়েছে সেখানে চেম্বর পাবেন ওখানেই নম্বরগুলো। কোন কোন এয়ারক্রাপ্টে সিটের পেছনে অথবা ডানে জানালার নিচে সিট নম্বর থাকে। তাই একটু কষ্ট করে খুজে নেবেন।

বিমানে উঠার পর সিটবেল্ট পড়ে নেবেন। অযথা খোলা লাগানো ঝামেলায় না গিয়ে ১টা ঘন্টা সিট বেল্ট পড়ে থাকেন। বিমান উড়াল দেয়ার আগে অবশ্যই আপনাদের মোবাইল ফ্লাইটমুড করে রাখবেন। এবং ল্যান্ড করার পর ফ্লাইডমুড অফ করে রাখবেন। বিমান উড়াল দিলো ৩৫/৪০মিনিট পর কলকাতা এয়ারপোর্ট নামলেন। সেখানে সবার আগে ইমিগ্রেশন প্রসেসিং শেষ করবেন যেমনটি বাংলাদেশে করেছেন। তারপর ওয়াশরুম সেরে লাগেজ নিয়ে বেরিয়ে পড়বেন। কলকাতায় প্রায় সময় ৩/৪নং বেল্টে লাগেজ পাওয়া যায়। তাই এদিক সেদিক ঘুরাঘুরি করবেন না। সেলফি তোরার জন্য শুধু ইমিগ্রেশন সেন্টার বাদে যে কোন জায়গায় সেলফি তুলবেন।

এই হলো বিমান যাত্রার সংক্ষিপ্ত বিবরণ।

এবার চলুন স্থলপথে ভারত ভ্রমন।

স্থল পথে যেতে চাইলে আপনার ভিসায় অবশ্যই স্থলপথের পাথের কথা লিখা থাকবে হবে। যেমন, হরিদাশপুর(বেনাপুল), গেদে, হিলি, রাধিকাপুর, ফুলবাড়ীয়া(বাংলাবান্ধা), বুড়িমারী, জলপাইগুড়ি, তামাবিল ইত্যাদির যে কোন একটি। ধরুন আপনি বেনাপুল দিয়ে ইন্ডিয়া যাবেন। তাহলে প্রথমেই আপনার কাগজপত্র রেডি করে নিতে হবে। উপরের মত পাসপোর্ট, ভিসা, করোনা রিপোর্ট/সনদ, ভ্রমন ট্যাক্স নিয়ে রওয়ানা দেবেন। নিজ নিজ জেলা হতে বেনাপুলের গাড়ি পাবেন। না পেলে আগে যশোর তারপর বেনাপুল যাবেন। এখান প্রথমে কাস্টমসে লাগেজ চেকিং করে নেবেন তারপর ইমিগ্রেশেনের জন্য ইমিগ্রেশন অফিসে লাইনে দাড়াবেন। ছবি তোলার পর আপনার পাসপোর্টে একটি সিল দেবে সিল পাওয়ার পর এগিয়ে যাবেন। সামনে বিজিবি পাবেন। তারা এন্ট্রি দেয়ার পর ইন্ডিয়া ঢুকবেন। ইন্ডিয়ায় ঢুকে ইমিগ্রেশন ফর্ম নেবেন। সেটা পুরণ করে প্রথমে বিএসএফ এন্ট্রি দেবেন, তারপর ইমিগ্রেশনে ফর্ম সহ পাসপোর্ট জমা দেবেন। ছবি তলা হয়ে গেলে সিল মেরে পাসপোর্ট আপনার হাতে ধরিয়ে দেবে। সেটি নিয়ে ইন্ডিয়ান কাস্টমসে গিয়ে আবার চেকিং দেবেন। চেকিং শেষ হলে সেখান থেকে বেরিয়ে বনগাঁ স্টেশনে যাওয়ার জন্য চেক্সি, ভ্যান ইত্যাদি পাবেন। সেটাতে উঠে যাবেন। স্টেশনে নেমে বনগাঁ টু শিয়ালদা টিকেট করবেন ২০টাকায়। ট্রেন আসলে উঠে পড়বেন। চলে যাবেন শিয়ালদাহ। বলে রাখি, মাঝ রাস্তায় বিরাটি ও দমদম স্টেশন পড়ে। আপনি কলকাতা বিমানবন্দর যেতে চাইলে এই দুই স্টেশনের যে কোন একটিতে নেমে যাবেন।

হিলি দিয়ে কলকাতা যেতে চাইলে প্রথমেই ইমিগ্রেশন প্রসেস শেষ করেন। তারপর হিলি বাসস্ট্যান্ড থেকে বাস পাবেন বালুঘাট যাওয়ার। যদি স্টেশনে যেতে চান তাহলে অবশ্যই স্টেশনের বাসে উঠবেন। ট্রেনের টিকেট অবশ্যই স্লিপার/এসি আগে বাংলাদেশ থেকে করে রাখবেন। নইলে আপনাকে ৪৩টাকায় লোকাল টিকেট করে বসে এলোমেলো ভাবে কলকাতা যেতে হবে। অনেক কষ্টের ভ্রমন।

 যদি বালুরঘাট শহরে যেতে চান তাহলে অবশ্যই বালুঘাট শহরের বাসে উঠবেন। হিলি বাসস্ট্যান্ডেই শ্যামলী পরিবহন পাবেন কলকাতা যাওয়ার। এসি গাড়ি। ৬টায় ছাড়ে। সেটাতে উঠলে পরের দিন ভোর ৫/৬টায় কলকাতা ধর্মতলায় নামিয়ে দেবে।

Please Share This Post in Your Social Media

© All rights reserved 2020 msbabu.com